বর্তমানে ভারতে অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ এবং ওড়িশা—এই সাতটি রাজ্যে প্রায় 3,660টি গ্রামদানী গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে ওড়িশায় সবচেয়ে বেশি (1,309টি) গ্রাম আছে। ‘গ্রামদান’ হলো এমন একটি প্রথা যার মাধ্যমে একটি সমগ্র গ্রাম তাদের জমিকে একটি যৌথ সত্তার অধীনে ন্যস্ত করে।এক সময় সম্পদ ব্যবস্থাপনার অধিকার গ্রামবাসীর হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার বড় লক্ষ্য নিয়ে এই আন্দোলন শুরু হলেও, বর্তমানে অনেক গ্রামদানী গ্রাম কেবল কাগজ কলমেই টিকে আছে। ঝাড়খণ্ড এবং বিহারে 1,600-এর বেশি গ্রামদানী গ্রাম নথিভুক্ত থাকলেও, সেখানকার অনেক গ্রামসভাই এখন আর সচল নেই এবং নতুন প্রজন্ম এই ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুই জানে না।
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার নিজেই গ্রামদানের স্বীকৃতি তুলে নিয়েছে। অসমে 312টি নথিভুক্ত গ্রামদানী গ্রাম ছিল, কিন্তু 2022 সালের সেপ্টেম্বরে জনসাধারণের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই রাজ্য সরকার গ্রামদান ও ভূদান—উভয় আইনই বাতিল করে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ভারতে বর্তমান সময়ে গ্রামদানের মতো যৌথ মালিকানার ধারণার প্রতি সচেতনতা এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব—উভয়ই কমে আসছে।
ভূদান আন্দোলন এবং গ্রামদানের উৎপত্তি
গ্রামদানের ধারণাটি মূলত 1950 ও 60-এর দশকের ‘ভূদান’ আন্দোলন থেকে এসেছে। পরাগ চোলকারের বই দ্য আর্থ ইজ দ্য লর্ড’স: সাগা অফ ভূদান-গ্রামদান মুভমেন্ট-এ ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, ভূদান মানে ছিল বড় জমিদারদের ভূমিহীনদের জমি দান করা। অন্যদিকে, গ্রামদানের অর্থ ছিল পুরো গ্রামের মানুষ মিলে তাঁদের জমির মালিকানা একটি ট্রাস্টের মতো সংস্থার (যেমন গ্রামসভা বা গ্রাম সমিতি) কাছে হস্তান্তর করা। এই ব্যবস্থার অধীনে গ্রামদানী গ্রামের বাইরের কেউ জমি কিনতে পারতেন না, তবে জমির মালিকরা তাতে চাষবাস চালিয়ে যেতে পারতেন এবং তার সুফল ভোগ করতে পারতেন।
ভূদানের ধারণাটি 1951 সালে দানা বাঁধতে শুরু করে যখন 1942-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী বিনোবা ভাবে হায়দরাবাদের কাছে পোচামপল্লী গ্রামের একটি ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সেখানে রামচন্দ্র রেড্ডি নামে এক জমিদার পুত্র ভূমিহীনদের জন্য নিজের জমি দান করেন। এতে উৎসাহিত হয়ে, বিনোবা ভাবে সারা ভারতের জমিদারদের তাঁদের জমির একটি অংশ ভূমিহীনদের দেওয়ার অনুরোধ করেন। এভাবেই ভূদান আন্দোলনের সূচনা হয়।
সারা দেশে পদযাত্রার সময় বিনোবা লক্ষ্য করেন যে, এমন অনেক গ্রাম আছে যারা তাদের পুরো জমিই গ্রামসভাকে দিয়ে দিতে রাজি। তখন তিনি প্রস্তাব দেন যে, কেবল জমি নয়, প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁদের আয়ের 1/40 অংশ একটি যৌথ তহবিলে দান করবেন। এই টাকা ভূমিহীনদের অবস্থা ফেরাতে এবং গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে খরচ করা হবে। তাঁর এই দূরদর্শিতাই পরে ‘গ্রামদান’ নামে পরিচিতি পায়, যা মূলত মহাত্মা গান্ধীর ‘গ্রাম স্বরাজ’-এর ধারণার বাস্তব রূপ।
2024 সালে মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলার মেন্দা-লেখা গ্রামটি 1964 সালের মহারাষ্ট্র গ্রামদান আইনের অধীনে নিজেদের গ্রামদানী গ্রাম হিসেবে আইনত ঘোষণা করে, যা কয়েক দশকের পুরনো এই আন্দোলনের এক আধুনিক উদাহরণ।

গ্রামদানী গ্রামগুলোর বর্তমান চ্যালেঞ্জ
যেহেতু গ্রামদান ব্যবস্থার অধীনে গ্রামসভা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী, গ্রাম স্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাবে রাজ্য সরকার এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ তৈরি হয়।
1. জমির মালিকানা নিয়ে বিবাদ
অতীতে রাজস্থান সহ অনেক রাজ্যে গ্রামদান ব্যবস্থা বেশ জনপ্রিয় ছিল। উদাহরণস্বরূপ 1965 সাল পর্যন্ত রাজস্থানের 426টি গ্রাম এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। যদিও সেই সময়ে রাজ্যে কোনো নির্দিষ্ট ‘গ্রামদান বোর্ড’ গঠিত হয়নি। পরবর্তীতে, 1960 সালের পুরনো আইনটি বদলে 1971 সালে রাজস্থানে একটি নতুন রাজস্থান গ্রামদান আইন চালু করা হয়েছিল।
1971 সালের এই আইনটি আজ পর্যন্ত কার্যকর থাকলেও এটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। রাজ্যের দুঙ্গারপুর জেলার বেশ কিছু গ্রামদানী গ্রামে গ্রামসভার নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে, সরকারি কর্মকর্তারা বেআইনিভাবে জমি বরাদ্দ করেছেন, আবার কোথাও বাইরের লোক এসে গ্রামদানী জমি দখল করে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতির পর, যেসব গ্রামবাসীরা এই ব্যবস্থার বাইরে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, তাঁরা ‘গ্রামদানী হঠাও সংগ্রাম সমিতি’ গঠন করেন। বর্তমানে তাঁরা নিজেদের জমির মালিকানা ফিরে পাওয়ার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, স্বচ্ছতা, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং গ্রামসভা ব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কেবল আইনি বা সাংবিধানিক ব্যবস্থা একটি সম্প্রদায়ের কাছে খুব একটা মূল্যবান হয়ে ওঠে না।
2. সরকারি প্রকল্পের সাথে সমন্বয়ের অভাব
মহারাষ্ট্রে কৃষকরা ক্রমাগত এই ‘গ্রামদান’ ব্যবস্থার বিরোধিতা করছেন, কারণ এর ফলে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পেতে তাঁদের সমস্যা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, 2022 সালে যখন প্রবল বৃষ্টি আর বন্যায় সয়াবিন চাষের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছিল, তখন কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার অধীনে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিমা কোম্পানিগুলো সেই আবেদনগুলোর বেশিরভাগই খারিজ করে দেয় এই যুক্তিতে যে যেহেতু জমিগুলো কৃষকদের নামে নথিবদ্ধ নয়, তাই তাঁরা এই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য যোগ্য নন। অথচ বিমা করানোর সময় কোম্পানিগুলো কৃষকদের এই তথ্য জানায়নি। ফলে প্রিমিয়াম হিসেবে 6,000 টাকা জমা দিয়েও বিপদের সময় কৃষকরা কোনো ধরণের সাহায্য পাননি।
একই ধরণের সমস্যায় কৃষকরা পড়েছেন ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ (PM KISAN) প্রকল্পের ক্ষেত্রেও, যা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তৈরি। যদিও তাঁদের জমির পরিমাণ সরকার নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম, কিন্তু জমির সরাসরি মালিকানা হাতে না থাকায় তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেননি।
এই সব প্রতিকূলতার মাঝে মহারাষ্ট্রে এখন মাত্র 20টি আইনত স্বীকৃত গ্রামদানী গ্রাম টিকে আছে।
3. গ্রামসভাগুলো তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না
সময়ের সাথে সাথে নতুন আইন এবং আইন সংশোধনের ফলে গ্রামসভাগুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, 1995 সালে রাজস্থানের 1971 সালের ‘গ্রামদান আইন’ সংশোধন করে 43 নম্বর ধারাটি বাদ দেওয়া হয়। এই ধারার মাধ্যমেই গ্রামসভাকে পঞ্চায়েতের সমান ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রাম প্রধান (সরপঞ্চ) কোনো গ্রামদানী গ্রামের পাশে না দাঁড়ান, তবে সেই গ্রামের উন্নয়ন পুরোপুরি থমকে যায়। 43 নম্বর ধারাটি সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে রাজস্থানে নথিভুক্ত গ্রামদানী গ্রামের সংখ্যা ক্রমাগত কমছে।
তা ছাড়া, সরকার সরাসরি গ্রামদানের আওতাভুক্ত জমি দখল করতে না পারলেও, বাস্তবে অনেক গ্রামের গ্রামসভা তাদের অধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না। 2014 সালে নাগপুরের ‘বিদর্ভ ভূদান-গ্রামদান সহযোগ সমিতি’ পশ্চিম অসমের বকো এবং কামরূপ জেলায় একটি সমীক্ষা চালায়। সেখানে দেখা গেছে যে, ছয়টি গ্রামদানী গ্রামের পঞ্চায়েতগুলোর হাতে কোনো ক্ষমতা ছিল না, যার ফলে ওই গ্রামগুলোর উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।
এর পাশাপাশি, গ্রামসভাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয় এমন অন্যান্য আইন—যেমন পঞ্চায়েত (তফসিলি এলাকা সম্প্রসারণ) আইন বা PESA—অনেক রাজ্যেই পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি। এর ফলে গ্রামদানী গ্রামগুলো যে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার কথা ছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে। তফশিলি এলাকার বাইরে থাকা গ্রামগুলোতে গ্রামদানের কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই, যার ফলে গ্রামসভাগুলোর নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় প্রশাসনিক আদেশের চাপে বাতিল হয়ে যায়।

সফল মডেলও বিদ্যমান
নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এমন কিছু গ্রাম আছে যারা গ্রামদান ব্যবস্থাকে সফলভাবে পরিচালনা করার বাস্তব উদাহরণ। এদের মধ্যে প্রধান হলো মেন্দা-লেখা গ্রাম। গত এক দশক ধরে এখানকার গ্রামসভা ‘অভ্যাস মণ্ডল‘ নামে একটি নিয়মিত আলোচনা ও চর্চার পদ্ধতি গড়ে তুলেছে। এখানে গ্রামের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরা একত্রে বসে গ্রামের সাধারণ সমস্যাগুলো সম্মিলিতভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন।
2013 সালের মধ্যে গ্রামের সকলের সম্মতিতে গ্রামের সমস্ত কৃষি জমি গ্রামসভার নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তর করা হয়—যাতে এই জমিগুলো কোনো বহিরাগত বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত না হতে পারে। এরপর থেকে, গ্রামসভাটি 1964 সালের মহারাষ্ট্র গ্রামদান আইনের প্রাসঙ্গিক আইনি ধারাগুলো কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক দাবি জানিয়ে আসছে।
রাজস্থানের সীদ গ্রামটিও এই দিশায় নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইনত গ্রামদান আইনের অধীনে না থাকলেও এখানকার গ্রামসভা জল, জঙ্গল এবং চারাগাহ (চারণভূমি)-র মতো যৌথ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এটি প্রমাণ করে যে, কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রামদান আইন ছাড়াও গ্রামের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে যৌথ মালিকানার ধারণা বজায় রাখা সম্ভব। এর চাবিকাঠি হলো গ্রামসভার সামাজিক স্বীকৃতি এবং গ্রামবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
তবে নগরায়ন, রাস্তা সম্প্রসারণ ও অন্যান্য পরিকাঠামো প্রকল্পের চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় এবং ফসলের ফলন কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো বর্তমানে গ্রামীণ ও কৃষক সম্প্রদায়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি, আইনি জটিলতা এবং সরকারি নীতিতে খামতি থাকার ফলে গ্রামদানের সম্মিলিত চেতনা ও চর্চা অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন উপায়ে এই ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।

গ্রামদান ব্যবস্থা কীভাবে টিকে থাকতে পারে?
গ্রামদান ব্যবস্থা মানুষকে নিজেদের জমি সামগ্রিকভাবে পরিচালনা করার ক্ষমতা দেয়—এই শক্তিকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগাতে শাসনব্যবস্থা, আইন এবং তৃণমূল স্তরে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এতে পুরো ব্যবস্থাটা আরও মজবুত হবে এবং তৃণমূল স্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াও আরও শক্তিশালী হবে।
- বর্তমান আইন ও নিয়মগুলোকে আরও স্পষ্ট করতে হবে যাতে কোনো সরকারি প্রকল্প বা উন্নয়নমূলক নীতির কারণে গ্রামসভার অধিকার খর্ব না হয়।
- PESA এবং বিভিন্ন গ্রামদান আইনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে যাতে তফশিলি এলাকার গ্রামসভাগুলোও আইনি সুরক্ষা পায়।
- জেলা ও তহসিল স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের গ্রামদানের ধারণা এবং এর আইনি মর্যাদা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
- সরকারি প্রকল্পগুলোর নিয়মকানুন আরও সহজ ও সরল করতে হবে যাতে ব্যক্তিগত মালিকানার বদলে জমির যৌথ মালিকানা থাকার কারণে কোনো গ্রামদানী গ্রাম সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।
- গ্রামের উন্নয়ন এবং গ্রামদান ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিনোবা ভাবে যে ভাবনার মাধ্যমে গান্ধীজির ‘গ্রাম স্বরাজ’-এর স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমানে এর প্রয়োগ এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। সমসাময়িক গ্রামীণ শাসনব্যবস্থায় সমষ্টিগত তত্ত্বাবধানের ধারণাকে নতুন করে ভাবতে হলে—যেখানে উন্নয়ন প্রক্রিয়াটি জমির ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর শাসন ও সম্মতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়—সেখানে ‘গ্রামদান’-এর মূল ভাবনাগুলোকে মানুষের মনে জীবিত রাখা খুবই জরুরি।
এই নিবন্ধটি পূজা রাঠি এবং জুহি মিশ্র লিখেছেন, সাথে পরাগ চোলকারেরও অবদান রয়েছে। পরাগ একজন সক্রিয় কর্মী এবং লেখক যিনি বিনোবা ভাবের জীবন এবং ভূদান আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
—





